এক্সক্লুসিভ

সত্যি সত্যি চলে গেলেন আনিসুল হক …..অবশেষে সত্যি সত্যি না ফেরার দেশে চলে গেলেন

সত্যি সত্যি চলে গেলেন আনিসুল হক .....অবশেষে সত্যি সত্যি না ফেরার দেশে চলে গেলেন

অবশেষে সত্যি সত্যি না ফেরার দেশে চলে গেলেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আনিসুল হক (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় রাত ১০টা ২৩ মিনিটে (লন্ডন স্থানীয় সময় ৪টা ২৩ মিনিট) লন্ডনের ওয়েলিংটন হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

বৃহস্পতিবার রাতে চিকিৎসকেরা তাঁর কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাসযন্ত্র (ভেনটিলেশন যন্ত্র) খুলে নেন। এরপর তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৬ বছর।

তাঁর পারিবারিক বন্ধু ও নাগরিক টেলিভিশনের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা ডা. আবদূর নূর তুষার এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে বেশ কয়েকবার অসুস্থ মেয়রের মৃত্যুর গুজব ওঠে। কিন্তু এবার সত্যি সত্যিই চলে গেলেন ঢাকার এই দাপুটে মেয়র। দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ মেয়রের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গত সোমবার তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়।

গত মঙ্গলবার মেয়রকে আইসিইউতে নেয়ার পরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাকে নিয়ে নানা গুজব ছড়িয়ে পড়ে। আনিসুল হকের অবস্থার অবনতি হলে তার পরিবারের লোকজন লন্ডনে যান।

তার পরিবারের সদস্যরা এখন যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন।

আগামী শনিবার সকাল ১১টা ২০মিনিটে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে তাঁর মরদেহ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌছানোর কথা রয়েছে। ঐদিনই বাদ আসর আর্মি স্টেডিয়ামে জানাজা শেষে তাঁকে বনানী কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে।

গত ২৯ জুলাই নাতির জন্ম উপলক্ষে ব্যক্তিগত সফরে সপরিবারে যুক্তরাজ্যে যান ৬৫ বছর বয়সী আনিসুল হক। সেখানে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। তার মস্তিস্কের রক্তনালীতে প্রদাহজনিত সেরিব্রাল ভাসকুলাইটিস শনাক্ত করেন চিকিৎসকরা।

অগাস্টের মাঝামাঝিতে লন্ডনের একটি হাসপাতালে ভর্তির পর নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রাখা হয়েছিল তাকে।

অবস্থার উন্নতি ঘটার পর গত ৩১ অক্টোবর তাকে আইসিইউ থেকে রিহ্যাবিলিটেশনে স্থানান্তর করা হয়েছিল। তার এক মাসের মধ্যে ফের আইসিইউতে ৬৫ বছর বয়সী আনিসুল হক।

তৈরি পোশাক ব্যবসায়ী আনিসুল হক ২০১৫ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন। খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই নাকি ফোন করে নির্বাচনে অংশ নেয়ার কথা জানিয়েছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর সে নির্দেশনা আশীর্বাদ ছিল বলে একাধিক প্রোগ্রামে উল্লেখ করেছিলেন। আশীর্বাদ জেনে উন্নয়নের পথে এলেন, দেখলেন এবং জয় করলেন। স্বপ্নজয়ের সিঁড়িতে ভর করেছিলেন সবে। স্থবির হয়ে পড়া রাজধানীর গতিও ফিরিয়েছিলেন খানিক। কিন্তু এই অবেলায় তার গতি থেমে যাবে, তা কে জানতো?

মেয়র আনিসুল হকের প্রধান চ্যালেঞ্জ ছিল সিটি কর্পোরেশন কেন্দ্রিক টেন্ডার বাণিজ্য বন্ধ করে ক্রয় খাতে স্বচ্ছতা আনা। তাতে সক্ষমও হয়েছিলেন। আর তেজগাঁও ট্রাকস্ট্যান্ড উচ্ছেদ, গাবতলীতে অবৈধ পার্কিং বন্ধ করা এবং সর্বশেষ দূতাবাসপাড়ায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা তার যুগান্তকারী পদক্ষেপ বলে মনে করা হয়।

ঢাকা সিটি কর্পোরেশন এলাকায় নানা রংবেরঙের বিলবোর্ড সরানো ছিল যে কোনো মেয়রের জন্য চ্যালেঞ্জ। রাস্তার পাশে, ভবনের ছাদে কিংবা দেয়ালে হাজার হাজার বিলবোর্ড শহরের সৌন্দর্য ম্লান করে দিয়েছিল। সেই চিরচেনা রূপ বদলে দিয়েছিলেন আনিসুল হক। প্রায় ২০ হাজার বিলবোর্ড অপসারণ করে তিনি। গাবতলী আর আমিনবাজারের অবৈধ পার্কিং উচ্ছেদ করে গতি দিয়েছিলেন এখানকার সড়কে।

আনিসুল হক ৬৬টি সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন (এসটিএস) নির্মাণ করেছিলেন, যেখান থেকে গড়ে প্রতিদিন দুই হাজার ৪০০ টন বর্জ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তবে সফলতার সিঁড়িতে হাঁটতে গিয়ে বারবার বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছিল মেয়র আনিসুল হককে। মোটেও সহজ ছিল না রাজনীতির আকাশে অরাজনীতিক এই ব্যক্তির কেতন উড়ানো। ‘ইচ্ছা থাকলেও নগরের উন্নয়ন করা যাচ্ছে না’ এমন অতৃপ্তির কথাও শুনিয়েছিলেন বারবার। তবুও থেমে থাকেননি। সরকারের সর্বোচ্চ মহলের সহযোগিতাই তাকে অনুপ্রাণিত করেছিল বারবার।

এত স্বপ্ন নিয়েও মৃত্যুর কাছে হেরে গেলেন হস্যময়ী আনিসুল হক। তবে মৃত্যুর মধ্য দিয়েই তিনি চিরঞ্জীব হয়ে বেঁচে থাকবেন নগরবাসীর মাঝে।

সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে তিনি এফবিসিসিআইর সভাপতি ছিলেন। তার আগে বিজিএমইএর সভাপতিও ছিলেন তিনি।

সর্বোচ্চ পঠিত

To Top
[X]