ধর্ম ও জীবন

নাপাক শরীর-কাপড় ও বিভিন্ন বস্তু পবিত্র করবেন কীভাবে?… চলুন জেনেনেই………

নাপাক শরীর-কাপড় ও বিভিন্ন বস্তু পবিত্র করবেন কীভাবে?... চলুন জেনেনেই.........

শরীরে নাজাসাতে হাকীকী (বড় নাপাকি) লাগলে তিনবার ধুয়ে দিলেই ইসলামী শরীয়তের দৃষ্টিতে পবিত্র হয়ে যায়। শরীরে নাপাক তেল অথবা অন্য কোনো তৈলাক্ত কিছু মালিশ করা হলে, শুধু তিনবার ধুয়ে ফেললেই শরীর পবিত্র হয়ে যাবে। তৈলাক্ততা দূর করা অবশ্যক নয়। যদি নাপাক রক্তে শরীর বা চুল রাঙানো হয়, তাহলে এতটুকু ধুয়ে ফেললে যথেষ্ট হবে যাতে পরিষ্কার পানি বের হয়। রঙ তুলে ফেলার দরকার নেই। [তাফসিরে বায়যাবি, দ্বিতীয় খণ্ড, পৃষ্ঠা-৭৯]

মোজা, জুতা অথবা চামড়ার তৈরী অন্যান্য জিনিস যদি নাপাক হয়ে যায় আর নাপাকি জমাটবাঁধা ঘন হয় (যেমন গোবর, পায়খানা, রক্ত, বীর্য প্রভৃতি) তাহরে নাপাকি ঘষে তুললে পবিত্র হয়ে যাবে। আর নাপাকি যদি তরল হয় এবং শুকিয়ে যায় দেখা না যায়, তাহলে না ধোয়া পর্যন্ত পবিত্র হবে না। ধৌত করার নিয়ম এই যে, প্রত্যেক বার ধোয়ার পর এতটা বিলম্ব করতে হবে যেন পানি টপকানো বন্ধ হয়ে যায়। এভাবে তিনবার ধুতে হবে। [ফতওয়ায়ে আলমগিরি, প্রথম খণ্ড, পৃষ্ঠা-৪৪; হিদায়া, প্রথম খণ্ড, পৃষ্ঠা-৭২]

কাপড়ে নাপাকি লাগলে তিনবার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে এবং প্রত্যেকবার ভালো করে চাপ দিয়ে নিংড়াতে হবে। ভালো করে নিংড়িয়ে ধোয়ার পরও যদি দুর্গন্ধ থেকে যায় কিংবা দাগ থাকে তাতে কোনো দোষ নেই।  এতেই কাপড় পবিত্র হয়ে যাবে। নাপাকি যদি এমন জিনিসে লাগে যা নিংড়ানো যায় না (যেমন খাট, পালং, মাদুর, পাটি, চাটাই, মাটির পাত্র, কলস, বাসন, চীনা মাটির বরতন, পেয়ালা, বোতল ইত্যাদি) তবে তা পবিত্র করা নিয়ম হলো, একবার ধুয়ে এমনভাবে রাখতে হবে যেন সমস্ত পানি ঝরে যায়। পানি ঝরা বন্ধ হলে আবার ধুবে। এরূপ তিনবার ধুয়ে নিলে পবিত্র হয়ে যাবে। [বেহেশতি জিওর, উর্দূ, দ্বিতীয় খণ্ড, পৃষ্ঠা-৭৭]

দুই পাল্লা বিশিষ্ট কাপড়ের এক পাল্লা যদি পবিত্র ও অপর পাল্লা অপবিত্র হয়, আর ঐ পবিত্র পাল্লার উপর নামাজ আদায় করলে নামাজ আদায় করা জায়িজ হবে। [বেহেশতি জিওর, উর্দূ, তৃতীয় খণ্ড, পৃষ্ঠা-৮০]

অপবিত্র মাটি শুকিয়ে গেলেই তা পবিত্র হয়ে যাবে। এমন মাটিতে নামাজ আদায় করা যাবে, তবে তা দিয়ে তায়াম্মুম করা জায়িজ হবে না। [ফতওয়ায়ে আলমগিরি, প্রথম খণ্ড, পৃষ্ঠা-৪৪; হিদায়া, প্রথম খণ্ড, পৃষ্ঠা-৭৪]

মাটি থেকে উদগত ধান, শস্য গাছের চারা নাপাক হওয়ার পর তা শুকিয়ে গেলে তা পবিত্র হয়ে যায়।  চুনসুরকী বা সিমেন্ট, বালি দিয়ে গাঁথা ইট নাপাক হলে তা শুকিয়ে গেলে পবিত্র হয়ে যাবে। [ফতওয়ায়ে আলমগিরি, প্রথম খণ্ড, পৃষ্ঠা-৪৪] আর গাঁধুনি ছাড়া বিছানো আলগা ইট নাপাক হলে তা ধুয়ে পবিত্র করতে হবে।

নাপাক মাটি দ্বারা হাঁড়ি পাতিল বানালে কাঁচা থাকা পর্যন্ত নাপাক থাকবে তবে আগুনে পোড়াবার সাথে সাথে তা পবিত্র হয়ে যাবে। [ফতওয়ায়ে আলমগিরি, প্রথম খণ্ড, পৃষ্ঠা-৪৪]

যে জমিন গোবর দ্বারা লেপা হয় তা নাপাক। তার উপর পবিত্র বিছানা না বিছালে নামাজ হবে না। তবে লেপা গোবর ভালোভাবে শুকিয়ে গেলে তার উপর এমনকি ভিজা কাপড় বিছিয়ে নামাজ আদায় করাও জায়িজ। অবশ্য কাপড় যদি এত বেশি ভিজা হয় যে এতে গোবর লেগে যাবার সম্ভাবনা থাকে তাহলে নামাজ হবে না। [বেহেশতি জিওর, উর্দূ, দ্বিতীয় খণ্ড, পৃষ্ঠা-৮৯]

সর্বোচ্চ পঠিত

To Top
[X]