এক্সক্লুসিভ

তাণ্ডব চালাচ্ছে ফনী, সারাদেশে নিহত ১৬

ঘূর্ণিঝড় ফণী ভারতের উড়িষ্যার উপকূলবর্তী এলাকায় আঘাত হানার পর এখন বাংলাদেশে অবস্থান করছে। আজ শনিবার সকাল ৬টা থেকে উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর ও দুর্বল হয়ে সাতক্ষীরা, যশোর ও খুলনা অঞ্চল এবং এদের পাশ্ববর্তী এলাকায় অবস্থান করছে।

ইতোমধ্যে ফণীর গতিপথ পরিবর্তন হয়েছে। সকালে যশোর দিয়ে প্রবেশের আশঙ্কা থাকলেও পশ্চিম দিকে সরে যাওয়ায় দুপুর দুইটার দিকে রাজশাহী দিয়ে প্রবেশ করতে পারে। এটি আরো পরিবর্তন হলে বাংলাদেশে তেমন প্রভাব নাও ফেলতে পারে।

বড় কোন প্রভাব না পড়লেও কাল রাত থেকেই ঘূর্ণিঝড় ফণির প্রভাব পড়তে থাকে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে। এরই মধ্যে পটুয়াখালী, বরগুনাতে বাধ ভেঙে প্লাবিত হয়েছে অনেক গ্রাম। আর সারাদেশে বজ্রপাত ও ঝড়ের তাণ্ডবে ঘড় চাপা পড়ে এখন পর্যন্ত নিহত হয়েছে অন্তত ১৬ জন।

এরমধ্যে নোয়াখালীতে ঘর চাপা পড়ে ১ জন; আহত অন্তত ৩০, বরগুনার পাথরঘাটায় খলিফার হাটে ঘর চাপা পরে ২ জন নিহত হয়েছে। বাগেরহাটের থানপুরে গাছের ডাল পড়ে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। সাতক্ষীরায় আজ শনিবার সকালে ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রে বার্ধক্যের কারণে এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। ঝড়ো হাওয়ার দরুণ বজ্রপাতে কিশোরগঞ্জে ৬, নেত্রকোণায় ২ ভোলাতে ১ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ২ জনের মৃত্যু হয়েছে এখন পর্যন্ত।

এদিকে শনিবার সকাল ১০টায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে আবহাওয়া অধিদফতরের সবশেষ ব্রিফিংয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক সামছুদ্দিন আহমেদ বলেন, ঘূর্ণিঝড় ফণী সকাল ৬টার দিকে বাংলাদেশের খুলনাঞ্চলে পৌঁছায়। এটি ধীরে ধীরে উত্তর ও উত্তর পূর্ব দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এখন এর অগ্রভাগ মেহেরপুর কেন্দ্রিক। তবে এর মূল কেন্দ্র এখনও যশোর জেলায়। ৫ থেকে ৬ ঘন্টা পর এটি রাজশাহী ও সিলেটের মধ্যবর্তী স্থান দিয়ে অতিক্রম করে এক সময় দুর্বল হয়ে যাবে গভীর নিম্মচাপে পরিণত হবে। এরপর ফলে যশোর-সাতক্ষীরা-মেহেরপুর এলাকায় সমূহে এখন ঝড় বৃষ্টি হচ্ছে। সেই সঙ্গে ঘুর্ণিঝড়টির প্রভাবে উপকূলীয় অঞ্চলের নিম্নাঞ্চলে স্বাভাবিকের চেয়ে ২-৪ ফুট জলোচ্ছ্বাস হতে পারে।

সামছুদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, ফণীর প্রভাবে রংপুর ও রাজশাহী বিভাগে ভারি বৃষ্টিপাত হচ্ছে । ভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে সিলেট ও ময়মনসিংহে। সকালে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে চাঁদপুরে-১২৭ মিলিমিটার।

Loading...

সর্বোচ্চ পঠিত

Loading...
Loading...
To Top