বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

স্মার্টফোনে ইন্টারনেটের খরচ কমানোর উপায় কি?

স্মার্টফোনে ইন্টারনেটের খরচ কমানোর উপায় কি?

সাম্প্রতিক সময়ে স্মার্টফোনের ব্যবহার বেড়েছে। আর স্মার্টফোন মানেই ইন্টারনেট। তাই আপনি ইন্টারনেটের খরচ বাঁচাবেন কীভাবে জেনে নিন।

এমন এক যুগ এসেছে যে, ইন্টারনেট ছাড়া এক মুহূর্তও যেনো চলে না। আরও সহজ হয়েছে স্মার্টফোনের কারণে। স্মার্টফোনে ব্যবহার করা হচ্ছে ইন্টারনেট। আর সেক্ষেত্রে স্মার্টফোনে ইন্টারনেটের খরচ একটু বেশি। তবে ইচ্ছে করলে আপনি স্মার্টফোন ইন্টারনেটের খরচ কমাতে পারেন। খরচ কমানোর এমন কয়েকটি উপায় নিয়ে আজকের প্রতিবেদন।

ডেটা রেসট্রিকশন

অনেকের অভিজ্ঞতা না থাকার কারণে ইন্টারনেট খরচ বেড়ে যায়। আমরা অনেকেই জানি না যে স্মার্টফোনটি যখন ব্যবহার করবো না, তখন যদি ডেটা অন করে রাখা যায়, তখনও ডেটা খরচ হতে থাকে। আপানার অ্যানড্রয়েড ফোনের বেশির ভাগ অ্যাপস সার্ভিস সচল রাখার জন্য ব্যাকগ্রাউন্ড ডেটা ব্যবহার করে থাকে। যেমন হোয়াটসঅ্যাপ, ভাইবার, গুগল অ্যাপস, প্লে-স্টোর ইত্যাদি।

ঘটনা হলো যে, এই অ্যাপসগুলো আপনি অন্যান্য কাজ করার সময়ও অকারণে ডেটা কাটতে থাকে। তাই এই ডেটা কাটা হতে বাঁচতে আপনাকে সেটিংস অপশনে গিয়ে প্রথমে ডেটা ইউজেস> তারপর রেস্টিক্ট ব্যাকগ্রাউন্ড ডেটা অপশনে টিক দিয়ে দিতে হবে। তখন আপনার নোটিফিকেশন বারে বিস্ময়সূচক চিহ্ন দেখাবে। এর অর্থ হলো অ্যাপসগুলি ব্যাকগ্রাউন্ডে ডেটা চুরি করতে পারবে না।

শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় অ্যাপস চালু রাখুন

শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় অ্যাপস চালু রাখাতে হবে। যেহেতু আপনি স্মার্টফোন ইউজ করেন। সেহেতু নিশ্চয়ই ইন্টারনেটভিত্তিক কোনো এক বা একাধিক ইনস্টেন্ট মেসেজিং অ্যাপ আপনি ব্যবহার করে থাকেন, সেটিই স্বাভাবিক। তবে এরমধ্যে এমন একটি অ্যাপ থাকতে পারে, যেটিকে সব সময় চালু রাখা প্রয়োজন। যদি ব্যাকগ্রাউন্ড ডেটা বন্ধ করেন তাহলে সবগুলি অ্যাপ একত্রে ব্যাকগ্রাউন্ডে বন্ধ হয়ে থাকবে।

এমন সমস্যা হতে বাঁচতে সেটিংস>ডেটা ইউজেস এ গিয়ে আপনি দেখতে পাবেন সবগুলি অ্যাপ দেখাচ্ছে। আবার কোন অ্যাপ কি পরিমাণ ডেটা খরচ করছে সেটিও আপনি দেখতে পারবেন। একটু সময় নিয়ে অ্যাপসগুলোতে ক্লিক করে ভেতরে প্রবেশ করুন। আর যে অ্যাপগুলো আপনার চালু রাখা প্রয়োজন সেগুলো বাদ রেখে বাকিগুলো রেস্টিক্টেড করে দিন। তাহলে প্রয়োজনীয় অ্যাপ আপনি ব্যবহার করতে পারবেন।

ডেটা সেভিংস অ্যাপ

কিছু অ্যাপস রয়েছে যেগুলো অনেক লো ডেটা খরচ করে আপনাকে ব্রাউজিংয়ের সুযোগ করে দেয়। যেমন অপেরা মিনি, অপেরা নিউ, ইউসি ব্রাউজার- এ ডেটা সেভিংস মুড রয়েছে। এই মুড ব্যবহার করে আপনি ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ব্রাউজিং খরচ কমিয়ে ফেলতে পারেন।

তাই ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং এর ক্ষেত্রে আপনাকে সঠিক অ্যাপ নির্বাচন করতে হবে। যেমন ভয়েস কলিংয়ের ক্ষেত্রে হোয়াটসঅ্যাপ-এ ডেটা খরচ খুবই কম হয়ে থাকে। তাই বুঝে-শুনে সঠিক সিদ্ধান্ত নিন।

সিকিউরিটি অ্যাপ

আবার আপনি বিভিন্ন সিকিউরিটি অ্যাপস ব্যবহার করেও ডেটা খরচ কমিয়ে ফেলতে পারেন। এই অ্যাপগুলোর মাধ্যমে আপনি জানতে পারবেন কোন অ্যাপগুলি ডেটা চুরি করছে। সেটিংসের মাধ্যমে আপনার পারমিশন ছাড়া কখনই সেগুলো ডেটা ব্যাবহার করতে পারবে না। প্লে-স্টোরে সি এম সিকিউরিটি, ৩৬০ সিকিউরিটি ইত্যাদি বিভিন্ন অ্যাপ রয়েছে। এই অ্যাপগুলোর দ্বারা ডেটা প্রটেকশন ছাড়াও ভাইরাস, হ্যাকিং হতে আপনার মোবাইল সুরক্ষিত থাকবে।

ডেটা সেটিংস

আপনার আরেকটি বিষয় জানা থাকা জরুরি আর তা হলো ফোনে ইন্টারনেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে কিছু সেটিংস রয়েছে, যেগুলি ব্যবহার করা অত্যন্ত জরুরি। যেমন- আপনার স্মার্টফোনটিকেও ওয়াইফাই্ হটস্পট হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব। ওয়াইফাই-ভিত্তিক কিছু অ্যাপস যেমন- শেয়ার ইট ব্যবহারের সময় আপনার অজান্তেই স্বয়ংক্রিয়ভাবেই হটস্পট চালু হয়ে যেতে পারে। আর এভাবে আপনি আপনার স্মার্টফোনের ডেটা বাঁচিয়ে ইন্টারনেট খরচ কমিয়ে আনতে পারেন।

সর্বোচ্চ পঠিত

To Top
কুপা ভাজ করি ফেলা দেও :p

কুপা ভাজ করি ফেলা দেও :p

Posted by Radio Padma News on Tuesday, 4 September 2018
[X]